♦ ১৯৬৪ সালে ফেনী জেলার পরশুরাম পাইলট হাইস্কুলে অধ্যায়নরত থাকা সময়ে স্কুলের জেনারেল ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হবার মাধ্যমে নেতৃত্বের সূচনা।

♦ স্কুল জীবনেই বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগদান ও নেতৃত্ব প্রদান।

♦ ১৯৬৯-৭০ সালে পুরনো ঢাকার টিপু সুলতান রোডস্থ সলিমুল্লাহ ডিগ্রী কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জি.এস ও একই সাথে কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি।

♦ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা মহানগরের যুগ্ম আহবায়ক।

♦ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জয় বাংলা বাহিনীর ৭নং প্লাটুন কমান্ডার।

♦ মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বপ্রথম আমিই ঢাকার বিভিন্ন সরকারি অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট কাফনের কাপড় ও চরমপ্ত্র পাঠিয়ে সতর্ক করে দেই।

♦ ১৯৭২-৭৩ সালে সলিমুল্লাহ ডিগ্রী কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি ও ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।

♦ ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল গঠন করার পর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিলুপ্ত হয়ে জাতীয় ছাত্রলীগে পরিণত হলে, জাতীয় ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগরের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এবং জাতীয় ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগরের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দপ্তরের প্রধান মনোনীত হই।

♦ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী চক্র বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবসহ স্বপরিবারে হত্যার পর (জননেত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা বিদেশে থাকায় আল্লাহর রহমতে বেঁচে যান) সর্বপ্রথম আমার নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয় এবং সেদিন যারা নাজাত দিবসের আয়োজন করতে চেয়েছিল তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করা হয়।

♦ ৭৫ পরবর্তী ‘মুজিব কন্ঠ’ নামে একমাত্র আমিই এই পত্রিকাটি প্রকাশ করি যার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ ধারাবাহিকভাবে শুরু হয়। উল্লেখ্য যে, ঐ সময় কোন পত্রিকা বঙ্গবন্ধুর নাম ছাপাতেও সাহস পায়নি। উল্লেখ্য, ‘মুজিব কন্ঠ’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ প্রকাশের কারণে আমাকে একাধিকবার ডিজিএফআই গ্রেফতার করে আমার উপর অমানুষিক নিযাতন চালায়। আমাকে চোখ বেঁধে নিযাতনের পর মৃত মনে করে রাস্তার পাশে ড্রেনে ফেলে দেয়া হয়।

♦ ৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে ১৯৭৬-১৯৭৯ সাল পর্যন্ত বৃহত্তম ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত রাখতে পর পর দু’বার সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। একই সাথে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি।

♦ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাননীয় সড়ক ও সেতুমন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের ঐ সময়ে ফরিদপুরে জেলে আটক থাকাকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সম্মেলনে আমি তাকে সভাপতি হিসেবে নাম প্রস্তাব করি এবং বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধিদের সমর্থন আদায় করি।

♦ ছাত্রলীগ থেকে অবসর নেয়ার পর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হই।

♦ ১৯৯৩ সালে তৎকালীন ঢাকা-১১ আসন তথা বৃহত্তর মিরপুর থেকে জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করি। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে আমাকে পরাজিত ঘোষণার পর পরই মিরপুর তথা দেশব্যাপী তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে উঠে। মিরপুরের সেই নির্বাচন থেকে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের জোরালো দাবীর সূচনা হয়।

♦ ১৯৯৫ সালে আর্ত-মানবতার সেবায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ভ্রাম্যমান হাসপাতাল স্থাপন করি যা সভানেত্রী শেখ হাসিনা পল্লবী এমডিসি মডেল হাই স্কুল মাঠে উদ্বোধন করেন। এই হাসপাতালের মাধ্যমে গরীব রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় আসার পর ঐ কাযক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে আবার জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হবার পর এ কাযক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।

♦ ১৯৯৬ সালে ঢাকা-১১ আসন (মিরপুর, পল্লবী, কাফরুল) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। নির্বাচনে আমি বিএনপি’র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জনাব এখলাস উদ্দিন মোল্লাকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। আমার নির্বাচনী এলাকা মিরপুর থানা, পল্লবী থানা, কাফরুল থানা, তুরাগ থানা তথা উত্তারা থানাধীন হরিরামপুর ইউনিয়ন থেকে শুরু করে বালুঘাট, গাবতলী, কল্যাণপুর অথাৎ এই বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল।

♦ ২০০১ সালে পুনরায় আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আমি নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও ১৯৯৩ সালের মত ব্যাপকভাবে কারচুপির মাধ্যমে ৪ দিন পর আমাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। অথচ নির্বাচন কমিশন আমার নির্বাচনী এলাকার পাশেই অবস্থিত। কোন জাতির নির্বাচনী ইতিহাসে এই ধরনের একটি ঘটনা অত্যন্ত বিরল দৃষ্টান্ত। বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় আসার পর শুরু হয় আমার উপর অত্যাচারের স্টীম রোলার। খালেদা জিয়ার গাড়ী বহরে হামলা-মামলা, বিদুৎ অফিসে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় মামলা, বিএনপি-জামাতের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রতিটি কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়। উত্তারায় একে-৪৭ অস্ত্রের মামলাসহ ৫২ মিথ্যা মামলা আমার নামে দায়ের করা হয়। বহুবার আমাকে গ্রেফতার করে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। সাভারে আমার গার্মেন্টস ফেক্টরীতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। তৎকালীন বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা মহান জাতীয় সংসদে এই বিষয়ের উপর বক্তব্য তুলে ধরেছেন। ধামরাইতে অবস্থিত আমার এস.এস. এগ্রো কমপ্লেক্স (প্রাঃ) লিঃ-এ লুটপাট করে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী, মাছ, ধান লুট করে নিয়ে যায় বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা।

♦ ২০০৩ সালে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমি ১নং সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অত্যন্ত সততা ও নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালন করি।

♦ বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর এর উপদেষ্টা পরিষদের ১নং সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি।

♦ ২০০৭ সালের ১/১১-এর পট পরিবর্তনে সর্বপ্রথম আমাকে গ্রেফতার করা হয়। অথচ মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল নো-এরেস্ট, নো-হ্যারেস। আমার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন মামলা দায়ের না করে বিনা কারণে আমাকে ১৮ মাস কারাগারে রাখার পর কল্পিত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন দুর্নীতির মামলা আমার ও আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়। আমার স্ত্রীকেও গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য যে, আমার স্ত্রীর একাউন্টে মাত্র ৬০০০/- টাকা ছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাকে ২২ মাস কারাগারে আটক রাখা হয়। আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্মম নির্যাতন করা হয়।

♦ ২০০৭ সালে আবার আমি মনোনয়ন লাভ করি। কিন্তু পরবর্তীতে সেই নীল নকশার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

♦ ২০০৮ সালে আমাকে ঢাকা-১৫ আসন (মিরপুর, কাফরুল, শেরেবাংলা ও ভাষানটেক থানার একাংশ) থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে আমি বিএনপি প্রার্থী হামিদুল হক খানকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে ২য় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। এলাকাটি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন এবং ঢাকা মহানগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান সত্ত্বেও অত্যন্ত অনুন্নত ছিল। বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন উক্ত এলাকায় উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১১ এর অসংখ্য অলিগলি, রাস্তা-ঘাট চওড়া করেছি। কোন কোন অলিগলি ও রাস্তা ৫ ফুট থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত চওড়া করেছি। রাস্তা চওড়া করার পর বৈদ্যুতিক পুলগুলোকে রাস্তার একপাশে স্থানান্তর করেছি। রাস্তা চওড়া করার আগে একটা রিকশা চলাচল তো দূরের কথা খাটিয়া করে লাশ বহন করা সম্ভব হত না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় এত্র এলাকার প্রতিটি রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি।

* ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে পুনরায় অর্থাৎ সর্বমোট তিনবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি।